ইস্টার্ন ব্যাংকের (ইবিএল) চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়াও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ইতিমধ্যে সিটি ব্যাংকের কাছে শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব, লেনদেন এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেছে দুদক। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়।
দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের প্রধান মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সই করা ওই চিঠিতে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিও শওকত আলী চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শওকত আলী চৌধুরী ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ ভাঙা (শিপ ব্রেকিং) ব্যবসার আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি করেছে। বিদেশ থেকে জাহাজ আমদানির কথা বলে এলসি (ঋণপত্র) খোলা হলেও বাস্তবে কোনও জাহাজ দেশে আসেনি। অথচ ওই এলসির বিপরীতে কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে দুদক।
‘এস এন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানির নামে অর্থ সরানো হয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে সিটি ব্যাংকের কাছে সংশ্লিষ্ট এলসি কপি, বিল অব এন্ট্রি, পরিবেশ অধিদফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে।
শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের একটি পাসপোর্টের কপি ইতোমধ্যে দুদকের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং বিধিমালা অনুযায়ী তথ্য গোপন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব রেখে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকা এবং সেই সুযোগে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, এই নাগরিকত্ব ব্যবহার করে বিদেশে একাধিক ‘শেল কোম্পানি’ বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে শওকত আলী চৌধুরী ছাড়াও তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বরীন, মেয়ে জারা নামরীন এবং ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে সিটি ব্যাংকে থাকা সব ধরনের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া, তাদের ব্যক্তিগত বা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট শাখার সুপারিশ এবং প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের কপিও চাওয়া হয়েছে।
দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জাহাজ না এনেই বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হতে পারে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

